বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এই অনুদান দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তারা।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ এই তহবিল অনুমোদন করে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ নামের এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। প্রকল্পটি ভবিষ্যতে ব্যাংক রেজোলিউশন ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করবে।

প্রকল্পের আওতায় আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়ানো হবে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অগ্রাধিকারভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, কার্যকর ‘ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ বা জরুরি তারল্য সহায়তার কাঠামো স্থাপন, ব্যাংক পুনর্গঠনের কৌশল তৈরি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা প্রদান।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স, রেগুলেটরি ক্যাপচার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে অনিয়মসহ ঋণ প্রদানের কারণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের হার ৩২.৬ শতাংশে পৌঁছায়, যা দক্ষিণ এশিয়ার গড় ৭.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। তদুপরি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পুরো ব্যবস্থার ঝুঁকি-ভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশ ছিল, যা সেক্টরের সঙ্কটকে আরও গভীর করে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম বলেন, “এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। ব্যাংক খাত—যা মোট আর্থিক খাতের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পদ যোগান দেয়—বর্তমানে প্রবল চাপে রয়েছে। এই প্রকল্প ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্র, পদ্ধতি ও কাঠামো তৈরি করবে, যা অবশেষে ব্যাংক ও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”

প্রকল্পের আরেকটি বড় অঙ্গ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকীকরণ। এতে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা, খাতভিত্তিক ডেটা ও অ্যানালিটিক্সের ঘাটতি পূরণ এবং ঝুঁকি নিরীক্ষণ ও তথ্যভিত্তিক তদারকির সক্ষমতা বাড়ানো হবে। ফলে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাতের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে আরো দক্ষ হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, IMF এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের উপর চাপ সামলাতে কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

এই তহবিল ও পরিকল্পিত সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা আরো ঝুঁকিপূর্ণ বা অনিশ্চিত অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষম হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহজতর হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন