বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক সূচনা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই বর্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এর উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের নেতা তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, পুরো দেশের জন্য এই বিশেষ বছরব্যাপী কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই বর্ষের বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তিনি emphasise করেন, নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও সমাজচেতনা যেন প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে। তিনি বলেন, নজরুলের কালজয়ী লেখনী আমাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে হবে এবং তার বিদ্রোহী, সাম্য প্রতিষ্ঠার ভাবনাগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে হবে সবার মাঝে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেছিলেন, নজরুলের এই অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দর্শন সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেই জন্য তিনি তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নজরুলের বাণী—গণতন্ত্র, সমতা ও বিদ্রোহের স্পৃহা—সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সরকারের এই এক বছরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নজরুল বর্ষের অংশ হিসেবে নানা ধরণের অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত হবে দেশের স্কুল, কলেজ ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে। এছাড়া, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক দর্শন আরও গভীরভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেমিনার ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হবে। এটি জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নজরুলের ভাবনা ও দর্শন তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বিদ্রোহী কবির স্মৃতি রক্ষার জন্য দেশব্যাপী এক বিশাল কর্মসূচির সূচনা করে, যা নজরুলের অসাম্প্রদায়িক তত্ত্ব ও মানবতাবাদী দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

পোস্টটি শেয়ার করুন