বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুনে রপ্তানি আয়ে ২৫.৯১% বৃদ্ধিসহ ফিরে এসেছে আস্থা: পোশাক ও কৃষিপণ্যের ভূমিকায় আত্মবিশ্বাস

বিদায় করা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বাংলাদেশ রপ্তানিতে চোখে পড়ার মতো পুনরুদ্ধার দেখিয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জুনে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২৫.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এ বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ৪২০ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যমানের পণ্য রপ্তানি করেছে। এক বছর আগের ওই মাসে রপ্তানি ছিল ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার; অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

রপ্তানিতে ফের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এগিয়েছে তৈরি পোশাক খাত। জুনে তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫২ শতাংশ বেশি। যার মধ্যে নিটওয়্যার থেকে এসেছে ১৮৪ কোটি ১ লাখ ডলার এবং ওভেন (ওভেন) পোশাক থেকে পাওয়া আয় হয়েছে ১৫৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

পোশাক ছাড়াও অন্যান্য খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও ৪৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সবচেয়ে তেজি অগ্রগতি হয়েছে কৃষিপণ্যে—এ খাতে আয় হয়েছে ৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৪৬.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। সরবরাহ ও দরকারি প্রক্রিয়াজাতকরণ উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাজা সবজি, ফল, মসলা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা বাড়ায় এ সাফল্য আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

তবে পুরো অর্থবছরের চিত্র সামান্য নেতিবাচক রয়ে গেছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত) মোট রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কম। বছরের প্রথম দিকে বৈশ্বিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক চাহিদার ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন-সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে রপ্তানি প্রত্যাশিত গতি অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যেই অর্থবছরের শেষ মাসের কাজের ফল হিসেবে পাওয়া শক্তিশালী পুনরুদ্ধার রপ্তানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ২৭ ধরনের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করেছে; এগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও হোম টেক্সটাইল উল্লেখযোগ্য।

রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে নতুন ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি, উৎপাদন সক্ষমতার উন্নতি এবং বিকল্প বাজারে সম্প্রসারণের উদ্যোগ জুন মাসের ইতিবাচক ফলাফল ঘিরে বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা আশা করেন এই ধারা বজায় থাকলে আগামী অর্থবছরে রপ্তানি আয় আরও শক্তিশালী হবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংক্ষেপে, প্রধান চ্যালেঞ্জ থাকলেও জুনের ফল এই মুহূর্তে রপ্তানি খাতকে পুনরায় ওঠার সংকেত দিচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন