জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশে চাই না আমাদের প্রতিবেশীরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে হস্তক্ষেপ করুক বা নাক গলাইও। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মাটি যেন অন্য দেশের জন্য অস্ত্র বা চাপের মাধ্যম হয়ে না ওঠে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট প্রকাশের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মনি তুলনা করেন, ভারতে যেখানে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, সেখানে বাংলাদেশে কি এত বেশি মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীনের সফর সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন, ভারত এসব ব্যাপারে চোখ রাখুক এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড বিচার করুক।
তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দেশের জীবনরেখা বা প্রাণের প্রকল্প আখ্যা দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
বাজেটের বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিরোধী দলও এই বাজেট গ্রহণ করেছে, তাই সবাই একযোগে এর বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রণীত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, এই বাজেট জনকল্যাণে ভিত্তি করে তৈরি।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির ওপর অতীতেরঅনিয়ম, আর্থিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির ছায়া এখনও রয়েছে। এজন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে মনোযোগী হয়েছে, যেমন জীবনমুখী পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প। এগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে কৃষিতে পানির নিরাপত্তা এবং দেশের পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, যা শুধুমাত্র প্রদর্শনী নয়, মানুষের প্রয়োজনের জন্য।
নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক ও পরিবার কার্ড, নারী ও প্রবাসী সেবা, সঙ্গে খাদ্য ও স্বাস্থ্যের জন্য বিস্তর কর্মসূচি। এর মূল লক্ষ্য হলো, কেউ না খেয়ে থাকবে না, সকলের জীবনমান উন্নত হবে এবং স্বাবলম্বী সে হবে।
তিনি আরও জানান, এই বছর বাংলাদেশের বিরোধী দল বাজেট প্রণয়নে অংশ গ্রহণ করেছে। তারা দাবি করেছিল, তারা ২৬ শতাংশ সময় পাবেন। কিন্তু সরকার আরও বেশি সময় দিয়ে তা ৩১ শতাংশ করে দিয়েছে, যাতে তারা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে পারে।
বিরোধী দলের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্তভাবে সাইকেলের জন্য কর প্রত্যাহারও নির্দেশ দিয়েছেন। এটা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক সুন্দর ও অঙ্গীকারময় দৃষ্টান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলছেন, সাধারণ মানুষ যেন জীবনযাত্রার খরচ সহনীয় রাখে, সে জন্য খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কর বৃদ্ধি হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় ৫০ লাখ পরিবারের জন্য প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো বিকল্প নেই। সকল সংস্কার তখনই সম্ভব, যখন সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। আশা করি, সবাই একসঙ্গে সেটা করতে পারবে।
নূরুল ইসলাম এই বলে শেষ করেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও উন্নয়ন ধারাবাহিক রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান এবং সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার পুণর্ব্যক্ত করেন।