শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর ‘যৌথ নিরাপত্তা’ কাঠামো গড়ার আহ্বান ইরানের

ইসরায়েলের চলমান হামলা ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ও শক্তিশালী ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। শুক্রবার (৩ জুলাই) তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলেরের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনোলরেজা এই ঘোষণা দেন।

ইরানের পক্ষ থেকে ফেরানো ওই প্রস্তাব অনুযায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের মতো দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ ইসলামিক নিরাপত্তা কাঠামো’ গড়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এমন উদ্যোগে নির্ধারিত অঞ্চলে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বশাসিত ও স্বশক্তভাবে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রেখে কাজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানা নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইবনোলরেজা টেলিফোনে তুরস্কের মন্ত্রীর কাছে বলেছেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অনুরোধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “চুক্তি ভঙ্গ করলে তার জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।” ইবনোলরেজা গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থনকে বর্তমান সংকট জটিলতর করার অভিযোগও করেন।

তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এই আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক পথেই সমস্যার সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গড়িয়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং প্রতিবেশি দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা ও সংলাপই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র উপায় বলে জোর দেন।

দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে এই সংলাপ তেহরান-আঙ্কারা সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে দুই পক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন। ইরানের প্রস্তাবিত যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোকে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ইবনোলরেজা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া উচিত; কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে নয়। তাই ইরান এখন তুরস্কের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে একটি বৃহত্তর মুসলিম নিরাপত্তা জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যাতে ইসরায়েল ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রতিক্রিয়া করা সম্ভব।

পোস্টটি শেয়ার করুন