প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার দেশের সব মানুষের জন্য এমন এক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে কাজ করছে যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক পার্থক্য মানা হয় না। তিনি বলেন, যেখানে সবাই নিরাপদে থাকবেন, এমন একটি সমাজ গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এই সভায় মূল অঙ্গীকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়, ২০২৬ সাল থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণা করার পরিকল্পনাও চলছে, বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের দেশের মন। তিনি আজীবন মানুষকে সাম্যের পথে เพลง শোনিয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষের ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও সেই স্বপ্নের সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে লিপ্ত, যেখানে সকলের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার থাকবে। তিনি বলেন, নজরুল কেবল অতীতের একজন কবি নয়, তিনি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণার অন্যতম উৎস। তার কবিতা ও জীবন আমাদের জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত থাকলেও, প্রখ্যাত এই কবি বিদ্রোহী, প্রেমের, বিরহের, তেজের, সাহসের সব রকমের কবি। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির জন্য তার কলম ছিল শাণিত অস্ত্র। তার লেখা বিভিন্ন সবুজ কবিতা, সংগীত আর সাহসী ভাষা আমাদের আন্দোলনে দিক নির্দেশনা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও ইতিহাসের স্মৃতি সবই নজরুলের লেখনীতে উচ্চারিত হয়েছে। তিনি জানান, নজরুলের সাহিত্য আর জীবন আমাদের অনুপ্রেরণা ও পথনির্দেশ। তিনি আমাদের বলেছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত। বর্তমান প্রজন্মের জন্য নজরুলের নৈতিক মূল্যবোধের কবিতা যেমন জরুরি, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার সৃষ্টি সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও জীবনদর্শনের মূল্যবান সম্পদ। তিনি আরো বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়েও নজরুলের গান ও কবিতা ছিল বিপ্লব ও মুক্তির শক্তি, যা এখনো আমাদের সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্মের জন্য নজরুলের চিন্তাধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে, সঠিক পথ নির্দেশে নজরুলের নৈতিকতা ও সাহস সবসময়ই যথার্থ। অনুষ্ঠানে ভাষ্যমতে, বিভিন্ন সাহিত্য, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠান এই বর্ষব্যাপী উদযাপনের অঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী এই উদযাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে নজরুলের মূল্যবোধের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বক্তৃতা শেষে নজরুলের জীবন, কর্ম ও সাহিত্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীরা অংশ নেন। এ সময় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন, ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ।