বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমা খাতের ধসে শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিমা খাতের শেয়ারগুলোতে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। বিমা কোম্পানিগুলোর এই নেতিবাচক রূপ বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর নেমে যায় এবং মোট মূল্যসূচক ও লেনদেনও কমে আসে। একই পরিস্থিতি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পরিলক্ষিত হয়।

দিনের শুরুতে ডিএসইতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও শেষপর্যায়ে বাজার মুখ বদলে নিয়েছে। শেষ বেলায় বিমা খাতের শেয়ারপড়ার চাপ বেড়ে অন্যান্য খাতেও বিক্রির ছড়াছড়ি দেখা দেয়। দিনশেষে ডিএসইতে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও ১৯২টির দাম কমেছে এবং ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মোট ৫৪টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৩৯টির দর নেমে গেছে, মাত্র ১৫টির দর বেড়েছে।

মূল্যসূচকে ডিএসইএক্স (DSEX) আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ৫৭৭০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ২১৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তুলনামূলকভাবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক সামান্য বেড়ে ১১৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে — বুধবার ডিএসইতে মোট শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা কম।

লেনদেনের তালিকায় শীর্ষে ছিল মালেক স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক ও সি পার্ল বিচ রিসোর্ট। এছাড়া আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ইস্টার্ন হাউজিং এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের মতো কোম্পানিগুলিও দিনে সক্রিয় ছিল।

মৌলভিত্তিসম্পন্ন বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশপ্রদানকারী ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে, আর ৭০টির দাম বেড়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৫টির দাম বাড়লেও ৪২টির দাম নেমে গেছে। মাঝারি মানের লভ্যাংশ প্রদায়ী কোম্পানিরাও মোটামুটি দরপতনের মুখোমুখি হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১২টির দাম কমলেও ১১টির দাম বেড়েছে।

চট্টগড়ার পুঁজিবাজারে পরিস্থিতি অনুরূপ ছিল। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪৭ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে তালিকাভুক্ত ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টির দাম বাড়েছে এবং ১০৫টির দাম কমেছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়ের তুলনায় কম।

মোটকথা, বিমা খাতের শেয়ারগুলোতে তীব্র দরপতন সবুজ সংকেতকে ছেড়ে দিয়ে বাজারকে বিক্রির কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছে; ফলে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা এবং লেনদেনে ধারা কমার ঘটনাই প্রধান ছবি হয়েই দাঁড়িয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন