চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবের জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) মোট ১.০০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। সরকারের অ-রিয়াতকালীন ঋণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি (এসসিএনসিএল) সম্প্রতি এই অর্থায়নকে সবিস্তারিতভাবে অনুমোদন করেছে। অর্থায়নের শর্তগুলোকে ইকোনমিক রিলেশনস ডিভিশন (ইআরডি) ‘হাইলি নন-কনসেশনাল’ অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল ও কঠোর হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে, তবু দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক দিক থেকে এটি অত্যন্ত কৌশলগত ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঋণটি দুটো ভিন্ন প্যাকেজে বিভক্ত: ‘ফরওয়ার্ড লিজ-১’-এ ৫২০.৫৯ মিলিয়ন ডলার এবং ‘ফরওয়ার্ড লিজ-২’-এ ৪৮৩.১০ মিলিয়ন ডলার। সুদের হার নির্ধারণ করা হবে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক টার্ম সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (এসওএফআর)-এর ওপর, যেখানে নির্দিষ্ট স্প্রেড ও ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ করা হবে। মোট ঋণের মেয়াদ হবে ২০ বছর, আর কিস্তি পরিশোধ শুরুর আগে প্রথম ৫ বছরের জন্য রেয়াতকাল সুবিধা থাকবে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক তেল শোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে এতে অনুষঙ্গিকভাবে আরও ৩০ লাখ টন যোগ হবে এবং মোট শোধন ক্ষমতা দাঁড়াবে ৪৫ লাখ টনে — প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি। এর ফলে বিদেশি পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্প থেকে ইউরো-৫ মানের ডিজেল ও গ্যাসোলিন উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, যা পরিবেশগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারি জ্বালানি ভর্তুকির চাপও হ্রাস করবে।
প্রকল্পের মোট বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১,০০০.৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার প্রদানের অংশ ধরা হয়েছে ১৮,৫৬৬ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করবে ১২,৪৩৩ কোটি টাকা। কাজের সময়সীমা নির্ধারিত আছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু করে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। ইআরডি সুপারিশ করেছে ঋণ হস্তান্তরের আগে বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ঋণ কিস্তি পরিশোধের দায় সরকারের ওপর অপ্রত্যাশিতভাবে পড়ে না।
প্রসঙ্গত, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের ধারণাটি প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অর্থায়ন ঘাটতি এবং বারবার নীতিগত পরিবর্তনের কারণে এক যুগেরও বেশি সময় প্রকল্পটি স্থগিত ছিল। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে এই প্রকল্পকে সর্বোত্তর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী আগস্টে আইএসডিবির প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় চূড়ান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।