মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ই. জিন ক্যারলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় মোট ৫.৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) জরিমানা হিসেবে পরিশোধ করতে হয়েছে। আদালতের নথি ও ক্যারলের আইনজীবীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুধু জুরি রায় নয় — ওই অর্থ একটি বিশেষ এসক্রো (জরুরি) অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুরি নির্দেশিত মূল ৫ মিলিয়ন ডলারের ওপর সুদ যোগ হওয়ার ফলে মোট পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ক্যারলের প্রধান আইনজীবী রবার্টা কাপলান মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ৮২ বছরব্যক্ত লেখিকা ই. জিন ক্যারল নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সাবস্ট্যাকে উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করে লিখেছেন, “ঈগল অবশেষে অবতরণ করেছে,”—তাতে বোঝানো হয়েছে টাকা হাতে পাওয়া গেছে।
ঘটনার পেছনের আইনি যুদ্ধও ততটা নাটকীয় ছিল। ২০২৩ সালের জুরি রায়ের পর আদালত যে অর্থটি এসক্রোতে আটক করেছিল, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ওই দেওয়ানি রায়কে বহাল রাখে। তাই নিম্ন আদালত—বিচারক লুইস এ. কাপলানের পর্যবেক্ষণে—জরিমানা লেখিকার কাছে ছাড়ার পথ পরিষ্কার করে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা শেষ মুহূর্তে জরুরি স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন, কিন্তু আদালত সেই আবেদন এক লাইনের সংক্ষিপ্ত আদেশে খারিজ করে দিয়েছে। আদালত ক্যারলকে অর্থ ব্যবহায় কোনো শর্ত দেয়নি এবং তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন তিনি বেশিরভাগ অংশ একটি অবসরকালীন অ্যাকাউন্টে রাখার পরিকল্পনা করছেন।
তবে প্রতিপক্ষ হাল ছাড়ে নি—ট্রাম্পের ডিফেন্স টিম পরে পুনরায় আপিল করে ওই অর্থ প্রদান বন্ধ বা বাতিল করতে চেয়েছে, ফলে আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টা আবারও উচ্চ আদালতে যেতে পারে।
এই মামলা দীর্ঘদিনের: অভিযোগ অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিংরুমে ই. জিন ক্যারলকে জোরপূর্বক যৌন আক্রমণ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যারল ২০১৯ সালে একটি আত্মজীবনীতে ওই ঘটনা প্রকাশ করেন, যা সামনে আসার পর ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন এবং সে সময় ট্রাম্প বলেন, ক্যারল ‘মিথ্যা বলছেন’ এবং তাদের কোনো সম্পর্ক হয়নি।
বিচার চলাকালীন ট্রাম্প আদালতে উপস্থিত ছিলেন না; অন্যদিকে ক্যারল সাক্ষ্য দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। নিউইয়র্ক রাজ্যের আইন বদল হওয়ার পরে পুরনো ঘটনার ওপর ভিত্তি করে আবারও মামলা দায়ের করার সুযোগ পাওয়ায় ক্যারল এই মামলা ফিরে আনেন এবং আইনি লড়াই শুরু হয়।
এই বিচারের বাইরে, ২০২৪ সালের আরেকটি পৃথক মামলায় ম্যানহাটন জুরি ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানি হিসেবে ট্রাম্পকে অতিরিক্ত ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছিল; সেটিও বর্তমানে আপিলের ধারে রয়েছে। সাধারণভাবে সংবাদমাধ্যমগুলি যৌন নির্যাতনের শিকারদের নাম গোপন রাখে, কিন্তু এই মামলায় ক্যারল নিজে তার নাম প্রকাশে সম্মত হয়েছেন।
আর্থিক পরিশোধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ মামলার আলোচনার নতুন অধ্যায় শুরু হল—আইনি প্রক্রিয়া যত দিন পর্যন্ত শেষ না হয়, তত দিন পর্যন্ত আপিল-চলাচলের কারণে চূড়ান্ত ন্যায়িক নিষ্পত্তি নিশ্চিত হবে না।