শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুখী, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়তে দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে এই লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর এসব কথা জানান তাঁর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।

তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন; তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা উপস্থাপন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তা ধৈর্য্য ও মনোযোগ দিয়ে শুনেন বলে উপপ্রেস সচিব জানান।

প্রধানমন্ত্রী সভায় বলেন, বর্তমানে যে সংগ্রাম চলছে তা খুবই বড়। টিকে থাকতে এবং আগামীতে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে একতা অপরিহার্য। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তার সরকার এমন একটি দেশ গড়তে কাজ করছে যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসাথে নিয়ে এগোতে চান তিনি এবং কাউকে আলাদা মনে করেন না।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁদের দাবি উপস্থাপন করেন—সমতলে ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদানের ব্যবস্থা, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন, বিভিন্ন প্রকল্প বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং এই জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ঋণসুবিধা চালুর অনুরোধ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পূর্বের শাসনকালে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি নষ্ট হয়েছে এবং বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে; যদি তা না হতো অনেক সমস্যা আগে থেকেই সমাধান হয়েছে হতে পারত।

তিনি জানান, তাঁর সরকার ধাপে ধাপে অগ্রাধিক্যভিত্তিকভাবে সমাধানযোগ্য সমস্যা আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে। দেশে দীর্ঘদিন ধরে থাকা অসংখ্য সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে তিনি বিস্মিত, কারণ এগুলোকে ১৭ বছর আগেই সমাধান করা উচিত ছিল—যদি তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হত, অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার অবক্ষয়ের কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পূর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন; তখন ৩১ বিছানার হাসপাতাল ছিল। পরবর্তীতে সেগুলো উন্নয়ন লাভ করে—এক পর্যায়ে ৫০ বিছানায় উন্নীত করা হয়; বর্তমানে সরকার ১০১ বিছানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের সরকারের কয়েকটি ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল।

অর্থবছর ২০২৬-২৭ সালে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্ট সংক্রান্ত জরুরি চিকিৎসা-যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন