শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেদোরভের বরখাস্তকে কেন্দ্র করে জেলেনস্কির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

ইউক্রেনের জনপ্রিয় মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে হঠাৎ পদচ্যুত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি তীব্র উত্তাপে উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, কিয়েভের রাস্তায় রাস্তায় শতশত তরুণ-তরুণী ও সাধারণ নাগরিক স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে একত্রিত হয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডে দেখা গেছে ‘‘ফেদোরভকে সরানো চলবে না’’ এবং ‘‘বিজয়ের পথে বাধা দেওয়া বন্ধ করো’’—জোরালো এ ধরনের দাবি বারবার উচ্চারিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশটির সামরিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের একাংশও এই পদক্ষেপকে কঠোর সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধকালীন অবস্থায় এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরিয়ে নেওয়া মনোবল ও রণনৈতিক সমন্বয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধকে উল্লেখ করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে ফেদোরভের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হয়ে থাকতে পারে। ফেদোরভ নিজেও দাবি করেছেন যে তিনি প্রেসিডেন্টকে সেনা প্রধান ও জেনারেল স্টাফের প্রধানকে পদচ্যুত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও স্বীকার করেছেন যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেনারেল স্টাফের মধ্যে কাঠামোগত দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে এবং তাঁর প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতা না থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন ছিল।

ফেদোরভ অভিযোগ করেছেন যে যুদ্ধক্ষেত্রে নেওয়া অনেক কার্যকর উদ্যোগ পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে জেলেনস্কি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইয়েভহেন খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছেন, আইনী প্রক্রিয়া শেষে খমারার নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টে পাঠানো হবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন যে, যুদ্ধের সময়ে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এমন অভ্যন্তরীণ সংঘাত ইউক্রেনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে—রতনশীল নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে এ মুহূর্তে দেশের প্রধান দরকার।

পোস্টটি শেয়ার করুন