শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: চিফ হুইপ

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির বলেছেন, ধামরাইয়ের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের মহান সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অপূর্ব উদাহরণ। এই রথযাত্রা ধর্ম-বর্ণ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার আবেদনকে তুলে ধরে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও একতার বন্ধনকে আরও মোজ্জবুত করে তোলে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মানুষ একতাবদ্ধভাবে ঐক্যের বার্তা প্রেরণ করে, যা দেশের সুদৃঢ় সামাজিক ভিত্তি এবং জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ধামরাই উপজেলার কায়েতপাড়ায় ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দিরের মাধব অঙ্গনে আয়োজিত এই রথযাত্রার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে পায়রা উড়িয়ে রথযাত্রা ও রথমেলার আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানের চলাকালে তিনি বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে অন্ধকারের প্রতিবিম্ব হয়ে আসা বহু সংগ্রাম-সংঘর্ষের কথা স্মরণ করে জাতি নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের জনগণ দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে নিজেদের সর্বত্র নিয়োজিত। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে সংঘটিত সেই বিপ্লবের আদর্শ বাস্তবায়নে দেশের সকল নাগরিকের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশের কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নেই; এখানে এই দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও অবদানের মাধ্যমে অর্জিত। ফলে, রাষ্ট্রে কোনো ধর্মীয় বিভাজন বা বৈষম্যের সুযোগ নেই।

বৈষম্যহীন সামাজিক নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধাগুলোর ক্ষেত্রে ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে ভেদাভেদ করা হয় না। দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার লাভের সুযোগ পাচ্ছে।

অতীতের রাজনৈতিক অপপ্রচারে সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় উৎসবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সহিংসতার ঘটনা কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ব্যতিক্রম ছিল। বর্তমান সময়ে সেই ধরনের অপতৎপরতার কোনো স্থান নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে কোন ধর্মীয় বিদ্বেষ বা বিভেদের স্থান নেই। বিএনপি’র উগ্রবাদী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতা বন্ধ হওয়ার নির্দেশ দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন ও সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ ও মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা ও অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।

অতিথিদের শুভেচ্ছা বিনিময়, ফুলেল বরন ও উত্তরীয় পরিয়ে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক ও ভক্তগণ অংশ নেন।

শেষে, চিফ হুইপ এই ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রা ও রথমেলার সার্বিক সফলতা কামনা করে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য সবাইকে একত্রে কাজ করে যেতে হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন