বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মে মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মোট ৪,২৮৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এপ্রিলের তুলনায় এটি প্রায় ১০.৮৫ শতাংশ বেশি এবং গত বছরের সেই একই মাসের তুলনায় খাতে ব্যয় ৩৩ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ভোক্তারা তাদের খুচরা কেনাকাটা ধরে রেখেছেন এবং ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা কেনার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে দেশী-বিদেশি বড় বিভাগীয় দোকান ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে কার্ড ব্যবহারের অংশ সবচেয়ে বেশি—মে মাসের মোট লেনদেনের প্রায় অর্ধেকই সেই খাতে হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়স্বাভাবিক বৃদ্ধির পাশাপাশি নগদ বিকল্প হিসেবে কার্ড ব্যবহারের সুবিধা, ব্যাংকগুলোর প্রচারমূলক অফার ও নগদ বহুমাত্রিক সীমাবদ্ধতা এই প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। গ্রাহকদের অনলাইন কেনাকাটা ও ই-কমার্স কার্যক্রমও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে প্রকট প্রভাব ফেলছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মে মাসে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহার বাড়ার নিদর্শন মিলেছে। তথ্যমতে, বিদেশে অবস্থানকালে বাংলাদেশি কার্ডহোলাররা মোট ৪২৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ লেনদেন করেছেন। বিপরীতে, বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিকদের কার্ড ব্যবহারের পরিমাণ মাসিক ভিত্তিতে সামান্য কমলেও বার্ষিক হিসাবেই এটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে—যা পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
আন্তর্জাতিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে মোট আন্তর্জাতিক লেনদেনের ১৭ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। এরপরের স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ওমরাহ ও ভ্রমণ সংক্রান্ত খরচের কারণে মে মাসে সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহার এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ভারত, মালয়েশিয়া ও চীনেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে অনুমোদিত মোট ঋণের সীমা ৪২ হাজার কোটি টাকার ঘরের ওপর পৌঁছিয়েছে এবং গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের আদায়যোগ্য বকেয়া অর্থ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪,৩৬৫ কোটি টাকায়। ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে ক্রেডিট প্রবণতা ও ঋণগ্রহণের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শও বিশ্লেষকরা দিচ্ছেন।
মোট মিলিয়ে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বৃদ্ধি ভোক্তাদের নগদের বিকল্প হিসেবে কার্ডকে গ্রহণযোগ্যতা দিচ্ছে, যেখানে বাজারের চাহিদা, প্রযুক্তি এবং ব্যাংকিং-সেবা মিলেই এই পরিবর্তনটি ত্বরান্বিত করছে।