ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা অব্যাহত রাখে তবে তেহরান ‘পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান’ শুরু করতে পিছপা হবে না। এই কঠোর হুঁশিয়ারি তিনি রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া এক বক্তব্যে দিয়েছেন।
রেজায়ি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘যদি মার্কিন আগ্রাসন থামে না, তাহলে কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না।’’ তিনি আরও জানান যে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ময়দানে আলোচনা চালানোর কোনো সুযোগ আর রইল না।
জেনারেল রেজায়ি মন্তব্য করেছেন, এতদিন ইরান যুদ্ধের পরিধি বাড়ানো বা প্রতিবেশী দেশে আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করেনি। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চলমান সংঘাতকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করা।
তবে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের মাধ্যমে তেল ও জাহাজ চলাচলে চাপ সৃষ্টি করে ইরান একটি প্রতিরোধ গড়ে তুলার চেষ্টা করেছে, যাতে যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলদ্বার হওয়ায় এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
রেজায়ি আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি ওয়াশিংটন এই সংকেত না বুঝে আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরান তার পূর্ণ সামরিক শক্তি ব্যবহারে দ্বিধা করবে না। দুই দেশের এই অনড় অবস্থানকে বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন।
অবস্থান উত্তেজনার মধ্যে রেখেই অচলাবস্থার সঙ্গেই বিশ্ববাজারে তেলের নিরাপত্তা ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি কিভাবে এগোবে—অনেকটাই নির্ভর করছে কূটনৈতিক চেষ্টার সফলতা ও পক্ষগুলোর প্রত্যাহারের ওপর।