শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে একমত, দক্ষ জনশক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ

ফিলিপাইনের রাজধানী মানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের এক মুহূর্তে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান এই বৈঠকে অংশ নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেল, এই বৈঠকের সময় সিঙ্গাপুরের পক্ষ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায়। তার জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের নতুন বসন্তয় দায়িত্ব পালনকালে তিনি সিঙ্গাপুরসহ ছোট দেশের স্বার্থ ও উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দেবেন।

উভয় পক্ষ তাঁদের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও গাঢ় ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি আচ্ছাদিত বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করেন। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদানের প্রশংসা করে জানান, সিঙ্গাপুর ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নের জন্য চলমান প্রচেষ্টা এবং আলোচনা অব্যাহত রাখতে দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময় হয়।

এছাড়া, বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ান শিল্পকৌশল ক্ষেত্রের অংশীদার হওয়ার জন্য সিঙ্গাপুরের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। এর পাশাপাশি রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের স্বার্থপর সমর্থন প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। নির্দিষ্ট করে, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য তিনি বিশেষভাবে সিঙ্গাপুরের প্রতি অনুরোধ জানান। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন