শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প ও সাধারণ জীবনঝুঁকি বাড়ছে

বর্তমানে দেশের গভীর গ্যাস সংকট এবং এর প্রভাব অর্থনীতি, শিল্প খাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুতর অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক, ইস্পাত ও ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পসমূহে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও কমে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং বাসাবাড়িগুলোর গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকার এই সংকট মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি ত্রুটি মেরামত, আমদানিকৃত গ্যাসের গতি বাড়ানো এবং দেশীয় অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দ্রুত কাজ শেষ হলে আগামী একাদশ দিনে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট মজুত এখন একমাত্র ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট, যা আগামী ১২ থেকে ১৩ বছর যথেষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের প্রধান গ্যাস ক্ষেত্রগুলো ধীরে ধীরে মজুতের নিঃশেষে এগুচ্ছে। যেমন, তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র এখন দিনে ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে, BAPEX এর হিসাব অনুযায়ী, অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনও তখন নানা কারণে কমে গেছে।

বিশেষ করে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর অপারেটর কর্তৃক কারিগরি সমস্যার কারণে দৈনিক গ্যাস সরবরাহে নাটকীয় কমতি ঘটেছে। এই পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে দেশের বড় বড় শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদনক্ষমতার ওপর, যার ফলে শ্রমিকের বেতন, ইউটিলিটি বিল ও ঋণ কিস্তি পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

টেক্সটাইল, সিরামিক, ইস্পাত ও চামড়া শিল্পের অবস্থা খুবই বিব্রতকর—অংশত উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর গ্যাসের অভাবে ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এসব শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা। বিদেশি ক্রেতারা শিপমেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী পণ্য পেতে পারছে না, ফলে দেশের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাধারণ নাগরিকরাও দুর্ভোগে পতিত, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নায় বিঘ্ন ঘটছে। ব্যতিক্রমী হতে গিয়ে অনেকেই বিকল্প বিকল্প জ্বালানি বা উচ্চ দামি এলপিজি ব্যবহার করছেন, যা জাতীয় বাজেটের জন্য খুবই burdensome। বেশ কিছু এলাকায় গ্যাসের স্বল্পতার কারণে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের জীবন প্রকম্পিত ও আয় কমে যাচ্ছে।

সরকার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মেরামত দ্রুত সম্পন্নের জন্য কাজ চলছে, এ জন্য আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করছে। এছাড়া, নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা ও অন্যান্য অনুসন্ধান প্রকল্প চালু করে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

অতীতের তুলনায় আরও বেশি কূপ খনন ও বিদেশি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্যাসের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মহেশখালীতে তৃতীয় এক্সেসএলএনজি ফ্যাসিলিটি (FSRU) স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যা দেশের রিগ্যাসিফিকেশন ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।

সমুদ্রে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে আরও নতুন ক্ষেত্রের সন্ধান ও বিকাশের পথ সুগম হচ্ছে। ভোলা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এভাবে কাজ চালিয়ে গেলে দেশের জ্বালানি সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করছে সরকার।

পোস্টটি শেয়ার করুন