বৃহস্পতিবার, ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: অর্ধশতাধিক আহত, রেল যোগাযোগ বন্ধ

ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার দিকে বগুড়ার সান্তাহার জংশন ত্যাগ করার পরই লাইনে পড়ে সংঘর্ষের মত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ঘটনায় ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে এবং অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে কেউ মারা গেছেন—এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ট্রেনটি বগুড়ার আদমদীঘি ও সান্তাহারের মধ্যবর্তী এলাকায় লাইনের মেরামত কাজ চলাকালীন সময়েই লাইনচ্যুত হয়। সেখানে রেলশ্রমিকরা মেরামত করছিলেন এবং সতর্কতা হিসেবে লাল পতাকা টাঙ্গানো ছিল। তবে সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান জানান, ইঞ্জিনে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় চালক লাল পতাকা দেখতে পাননি—যার ফলে ট্রেনটি চলতে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়।

সান্তাহার থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, সান্তাহার স্টেশন থেকে কিছু সময় পর ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ চলছে এবং লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার কারণে সিংগেল লাইনে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়েছে।

রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে এবং নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঈশ্বরদী জংশন থেকে উদ্ধাকারী ট্রেনও ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়েছে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানও দুর্ঘটনার সময় ও স্থানের সারসংক্ষেপ নিশ্চিত করেছেন। বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান জানান, জরুরি মেরামত ও উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিকের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও উদ্ধারসেবার সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আহতদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও রেল সার্ভিসে বিস্তারিত আপডেট পাওয়া শুরু হলে তা জানানো হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন