বৃহস্পতিবার, ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ বলে তেল আবিবে ইরানের ক্লাস্টার ওয়ারহেড হামলা

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী আলী লারিজানি হত্যা মামলায় প্রতিবাদ হিসেবে বুধবার তেল আবিবে ক্লাস্টার বা গুচ্ছবোমা বহনকারী ওয়ারহেড হামলা চালিয়েছে—এমন খবর জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। তেল আবিবে জনবহুল এলাকায় করা এই অভিযানে কমপক্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন; এতে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান বারবার এই ধরনের ক্লাস্টার বা গুচ্ছবোমা ব্যবহার করছে। তাদের মতে, এসব ওয়ারহেড মাঝ আকাশে ছোট ছোট বিস্ফোরকে বিভক্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার উপর ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সামরিকভাবে প্রতিরোধ করা কঠিন হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) নিশ্চিত করেছে যে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আইএইএ জানায়, এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পৌঁছায়নি। সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখতে এবং পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আলী লারিজানি নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, সোমবার রাতের একটি হামলায় লারিজানির সঙ্গে তাঁর ছেলে ও ডেপুটি আলিরেজা বায়াতও প্রাণ হারান। ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তায় আরও জানানো হয়েছে যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিনে সুপ্রিম লিডার সংক্রান্ত ঘটনার পর থেকে লারিজানি চলমান সংঘাতে নিহত হওয়া সর্বোচ্চস্তরের একজন কর্মকর্তা। এসব দাবিকে কিভাবে যাচাই করা যায়, তা স্বাধীনভাবে নির্ণয় করা এখনও মেলেনি।

সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে যে, দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া অভিযানকে ইরান মনে করে মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে পরিচালনা করছে; তাদের দাবি অনুযায়ী ওই অভিযান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুর্বল করা এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে। এই দাবিগুলো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও শান্তিচিন্তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার রক্ষণশীল রূপরেখা প্রতিফলিত করে, তিনি তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবকৃত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতি’ প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন—সরকারি বর্ণনায় তিনি বলেছেন, “যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজিত করে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ শান্তি সম্ভব নয়।” দায়িত্ব গ্রহণের পরে মোজতবা খামেনির কোনো ছবি বা ভিডিও এখনও প্রকাশ করা হয়নি, বলে জানিয়েছে সরকার।

ঘটনাচক্রে তথ্য দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং পক্ষগুলোর অনুঘটিত বিবৃতিগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা জরুরি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা তীব্র উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন এবং সীমান্তজুড়ে উচ্চস্তরের সতর্কতা অব্যাহত আছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন