চলতি অর্থবছরের ১১ম এবং সরকারের তৃতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে নেওয়া হয়। সরকারী সূত্র জানায়, বিশেষ এই প্রকল্পটির জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা ছিলো, যার স্বীকৃতি আসে আধুনিক পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে। ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে এই ব্যারেজ নির্মাণের দাবি উঠে আসছিল। এরপর, ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এই প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। তদ্ব্যতীত, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের পথে বড় ধাপ হিসেবে এই প্রকল্প অনুমোদনকে দেখা হচ্ছে। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। তিনি জানান, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। অন্য প্রশ্নের জবাবে, ভারতের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে কি-না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নের জন্য দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কমিটি কাজ করছে। মন্ত্রী আরও জানান, আগামী বাজেট ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।