বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেললো দালাল, ৭ মাসের শিশু মিনহাজের মৃত্যু

রংপুর থেকে আসা সাত মাসের শিশু মিনহাজের জীবন এই ঘটনায় শোকাবহ হয়ে উঠেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা শিশুটির চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে, করোনাকালীন কঠোর নির্দেশনা থাকলেও একজন দালাল তার অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। এর ফলে শিশুটি অক্সিজেনের অভাবে কোলেই মারা যায়। ঘটনা ঘটে ১২ মে মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত এনায়েত করিম নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। তিনি ঢামেক হাসপাতালের এক সময়ের অফিস সহকারী, যিনি নতুন করে বরখাস্ত হয়েছিলেন।’

স্বজনরা জানিয়েছেন, মিনহাজ কিডনি জটিলতায় ভুগছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়। হাসপাতালে শয্যা না থাকায় তাকে ভর্তি করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এনায়েত তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, শয্যা উপলব্ধ থাকলে দ্রুত ভর্তি করে দেয়া হবে, কিন্তু পরে তারা দেখতে পান যে তিনি একটি ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছিলেন।

এনায়েত কেঁটেছেন কাঁটাবন এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে, যেখানে তিনি প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা করে খরচ করে রোগী রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর, শিশুটির মা-বাবারা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, এনায়েত তার মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। শিশুটিকে মাস্কছাড়া প্রায় ২০ মিনিট নিয়ে তার দালালি কাজে ব্যস্ত থাকেন। শিশুটি যখন অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন স্বজনরা বুঝতে পারেন যে শিশুটি আর বাঁচে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ আছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সার্টিফিকেট দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল কর্তৃপক্ষ। তারপরও তিনি হাসপাতালের দালালি ও প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ঢামেক হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের সুযোগ নিয়ে এখানে প্রায় অর্ধশত দালাল সক্রিয় রয়েছে। এই দালালরা আইসিইউ প্রয়োজন—এমন মুমূর্ষু রোগীদের লক্ষ্য করে তাদের অন্যত্র বা বেসরকারি ক্লিনিকে ভাগিয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও, মূল চক্রের মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন