শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিশ্বজুড়ে কয়লার ব্যবহার বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করে অনেক দেশ এখন বিকল্প হিসেবে আবার কয়লার দিকে ঝুঁকছে—বিশেষত এশিয়ার দেশগুলোতে কয়লা ব্যবহার ও আমদানি 눈에 পড়ার মতো বাড়ছে।

কেপলারের তথ্যানুযায়ী, চলতি মে মাসে বিশ্বজুড়ে কয়লা আমদানির পরিমাণ ৪ লাখ ৬৪ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে; এটি ইতিহাসে মাসিক রেকর্ডের তৃতীয় অবস্থানে যেতে পারে। সাধারণত উত্তর গোলার্ধে শীতকালের পর এ সময় চাহিদা কম থাকার কথা থাকলেও যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে চাহিদার চিত্র উল্টে গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এই বাড়তি চাহিদির ফলে কয়লাবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়েছে এবং পরিবহন ব্যয় কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মার্কেট ডেটা সংস্থা আরগাস জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মে মাসে কয়লা পরিবহনের ভাড়া গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে পণ্য পরিবহনের ভাড়া গত কয়েক মাসে ৬০–৭৫ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে জাহাজ ভাড়া ৪০–৫০ শতাংশ বেড়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কাতার ও উপসাগরীয় দেশগুলোর এলএনজি নির্ভরতা থাকা দেশগুলো এখন দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কয়লায় আশ্রয় নিচ্ছে।

থাইল্যান্ডে বন্ধ রাখা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালানো হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া পরিবেশগত বিধিনিষেধ শিথিল করে কয়লা থেকে বিদ্যুত উৎপাদন বাড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ গিগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদন করেছে। জাপান ও ভিয়েতনামেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। শিপিং সংস্থা বিমকোর তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে কয়লা সরবরাহ去年র তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে মাঝারি আকারের পণ্যবাহী জাহাজগুলোর ব্যবহার তুঙ্গে ওঠেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা ব্যবহারকারী চীন তাদের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা ভিড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় চীন কয়লা থেকে কেমিক্যাল উৎপাদন বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে হিটিং নয়—কুলিং চাহিদা বাড়ায় কয়লার চাহিদাও আরও বাড়তে পারে। এ কারণেই অনেক দেশ সাধারণত জুলাই থেকে শীতের জন্য মজুত করা কয়লা আগেভাগেই সংগ্রহ করতে শুরু করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সত্ত্বেও অনেক দেশ এখন স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দূষণকারী এই জ্বালানির দিকে ফিরছে। এ পরিস্থিতি দেখায় কিভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নীতিকে বদলে দিতে পারে, এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু লক্ষ্য ও স্বল্পমেয়াদি শক্তি চাহিদার মধ্যে কষ্টসাধ্য সমন্বয় গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন