শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ ২১ জন নিহত

রাশিয়ার সম্প্রতি চালানো ব্যাপক আকাশ হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে; আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ইউক্রেনীয় জরুরি সেবার বরাতে শুক্রবার ভোরে আনা তথ্যে বলা হয়েছে, মস্কোর এই নৃশংস আক্রমণের ফলে আগ্রাসন বন্ধ হওয়ার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল, তা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সারাক্ষণই কিয়েভজুড়ে বিমান হামলের সাইরেন বেজে উঠে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। আকাশে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বিস্ফোরণের শব্দ ও আলোর ঝলকানি দেখা যাওয়ায় নগরবাসী নিরাপত্তার খোঁজে মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, কিয়েভকে লক্ষ্যমাত্রা করে ওই হামলায় রাশিয়া মোট ৬৭৫টি ড্রোন এবং ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬৫২টি ড্রোন এবং ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কিছু হামলা লক্ষ্যভেদ করে বড় ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।

কিয়েভবাসী আন্দ্রিই এএফপিকে বলেন, “চারপাশে সবকিছু আগুনে পুড়ছিল। মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করে দৌড়াচ্ছে।” তিনি এক ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্যবর্ণনা দেন।

দেশীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাজধানীতে অন্তত ২০টি স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে; এর মধ্যে সাধারণ আবাসন, একটি স্কুল ও একটি ভেটেরিনারি ক্লিনিক রয়েছে। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি জানান, কিয়েভে একটি আবাসিক ভবন রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রথম তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত ধসে পড়েছে এবং সেখানে উদ্ধারকার্যের কাজ চলমান আছে।

পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রথম দিকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়—তাদের মধ্যে তিনজন নারী, তিনজন পুরুষ ও একজন কিশোরী রয়েছেন। পরে জরুরি সেবাগুলো নিশ্চিত করেছে যে মোট প্রাণহানি ২১ জনে পৌঁছেছে এবং নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন শিশু রয়েছেন।

ঘটনাটি শহরের মানুষকে গভীরভাবে shaken করেছে এবং উদ্ধার-নিরাময় কাজ অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতের পরিধি ও আহত-নিহত সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান থাকায় পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পরের ঘণ্টাগুলোতে জানা যাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন