শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় প্রতিহিংসা ছেড়ে সহনশীলতা: হাফিজ ইব্রাহিমের নতুন রাজনৈতিক মডেল

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও সংঘাতের পরিচিত ছাঁচ ভাঙা কঠিন কাজ—তবে ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন (ভোলা-২) আসনে সেই বদলটাই চোখে পড়ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে সেখানে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এক সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির সংস্কৃতি।

দেশে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক জায়গায় উত্তেজনা ও উত্তেজনাময় পরিস্থিতি দেখা গেলেও ভোলার এই দুই উপজেলায় পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ—স্থানীয় নেতারা বলছেন এখানে রাজনৈতিক প্রতিশোধের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বিএনপি ও বিভিন্ন মহলের দাবি, কোনো মামলা বা হামলার ভয়ে সাধারণ মানুষ জীবনে অস্বাভাবিকতা অনুভব করছেন না; তারা শান্তিতে তাদের কাজ-কর্ম করে যাচ্ছেন।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খাঁন বলছেন, হাফিজ ইব্রাহিম বারবার বলেছেন—রাজনীতি হবে জনগণের কল্যাণের জন্য, প্রতিহিংসার জন্য নয়। এই বার্তা থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বহুজনের ভেবে ওঠা বিরোধ এখন আলোচনার মাধ্যমে মিটছে—আন্দোলন বা আক্রমণের নয়।

গতের তিক্ত স্মৃতি ভুলে ক্ষমাশীলতার অনন্য উদাহরণ তৈরি হয়েছে এখানে। স্থানীয়দের কথায়, আগের সরকারের সময় হাফিজ ইব্রাহিমের বাড়ি বহুবার হামলার শিকার হয়েছিল এবং তাকে কোনো সময় অবরুদ্ধও রাখা হয়েছে। তবু ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে তিনি কোনো প্রতিশোধ চালাননি—উল্টো, তিনি এমন পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করেছেন যাতে অন্য পক্ষও নিরাপদ বোধ করে। তারই নিদর্শন হিসেবে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আলী আজম মুকুলের বাড়িতে কোনো ধরনের হামলা বা ভাঙচুর হতে দেননি।

রাজনৈতিক সীমানা পেরিয়ে সামাজিক ন্যায় ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করার কথাও উঠছে। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শহীদুল আলম নাসিম জানান, এখন পরিস্থিতি এমন যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন বিরোধ নিয়ে তাদের কাছে এসে ন্যায় বিচার দাবি করছেন। দল-মত নির্বিশেষে ‘‘যিনি সঠিক, তিনিই বিচার পাচ্ছেন’’—এই নীতি মাথায় রেখে কাজ চলছে। স্থানীয়দের মতে, এসব পরিবর্তন পুরনো অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

এ حالةে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর সংঘাতহীন রাজনৈতিক পরিবেশে অনেকেই আশাহত মন থেকে মুক্তি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি এই ধরনের সহাবস্থানের রাজনীতি স্থানীয় পর্যায়ে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তা দেশব্যাপী ছড়ানো যায়, তাহলে তা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ও দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।

ভোলার রাজনীতি এখন এক ধরণের প্রশংসনীয় মডেলের রূপ নিয়েছে—যেখানে প্রতিহিংসা নয়, সম্প্রীতি ও ন্যায়ই প্রাধান্য পাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের এবং সাধারণ মানুষের আশা, এই মডেল অন্যান্য অঞ্চলেও অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন