বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। মিরপুর ও সিলেটে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের প্রাপ্তি এবং সেটির ফল হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে একটি বড় সুখবর এসেছে — টাইগাররা প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি একটি নতুন মাইলফলক।
ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দলের র্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম ও সিলেটের উইকেটে নির্ধারক ভূমিকা নিয়েছিল ঘরোয়া সামর্থ্য এবং খেলোয়াড়দের একাগ্রতা; সেই আত্মবিশ্বাসের সুবাদেই রেটিং পয়েন্টে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা দিয়েছে।
এ ঐতিহাসিক অর্জনের পেছনে ছিল পরিকল্পিত কৌশলগত বদলও। মধুর-স্পিন সহায়ক উইকেটগুলোয়ের বদলে পেস-বোলিং এবং ব্যাটিংকে কিছুটা অনুকূল পিচ নির্বাচন করে দল একটি নতুন রকম চ্যালেঞ্জ নেয়। নাজমুল হোসেন শান্তের নেতৃত্বে খেলোয়াড়রা ওই পরিকল্পনা কার্যকরে রাখে এবং কোচ ফিল সিমন্সের তত্ত্বাবধানে ব্যাট-বলে সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখায়। এ আগ্রাসী মনোভাব ও জয়ের ক্ষুধাই অঙ্গীকারকে সাফল্যে রূপ দিয়েছে।
আইসিসি-র হালনাগাদ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। শ্রীলঙ্কা এক ধাপ এগিয়ে এখন ষষ্ঠ স্থানে উঠেছে, ফলে বাংলাদেশের ঠিক ওপরে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে। পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ উভয়ে এক ধাপ পিছিয়ে যথাক্রমে অষ্টম এবং নবম স্থানে নেমে এসেছে।
শীর্ষ পাঁচে কোনো বদল হয়নি। এককভাবে সেরা অবস্থানে ১৩১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আছে। তাদের পিছনে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, এরপর ভারত, ও পরে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড অবস্থানই ধরে রেখেছে।
এই নতুন অবস্থান বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একটি পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী ইমেজ দিয়েছে। খেলোয়াড়রা, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের উদ্দীপনা ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়নশিপ ও সিরিজে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দেশের গ্রাম-গঞ্জ থেকে শহরের স্টেডিয়াম—সবাই মিলেমিশে এই সাফল্য উদযাপন করছে, আর টাইগারদের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য অর্জনের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে।