বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগে ঢাকায় মসলার ঝাঁপ, হিলিতে দাম কমছে

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে রাজধানীর খুচরা বাজারে মসলার দাম তীব্রভাবে বাড়লেও আমদানির প্রধান কেন্দ্র হিলি স্থলবন্দর থেকে এ চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। ঢাকার খুচরা বাজারে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ ও এলাচসহ বিভিন্ন মসলার দাম 눈ে পড়ার মতো বেড়েছে।

ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা বলছেন, বাজার তদারকির ঘাটতি এবং সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই খুচরা বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, আদা ২০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদের কারণে এলাচের কেজি দামে কয়েকশত টাকা ওঠানামা করে এখন তা ৪,৬০০ থেকে ৫,৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমনকি লবণের দামও কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে হিলি স্থলবন্দর থেকে আমদানি বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত মজুতের কারণে সেখানে মসলার কোনো তাস্কর দেখা যাচ্ছে না; দামও কমতে শুরু করেছে। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, “আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে হিলি দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছে। বর্তমানে জিরা, আদা, সাদা এলাচসহ বিভিন্ন মসলা এই বন্দরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।”

কাস্টমস বিভাগ বলছে, চলতি বছর শুরু থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত হিলি থেকে ২৬ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে মসলার আমদানি হয়েছে; যার মধ্যে জিরা ও ছোট এলাচ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন রয়েছে।

পাইকারি স্তরে হিলিতে জিরার দাম এখন কমে ৫৪০-৫৬০ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে; যা আগে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সাদা এলাচের দামও প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০০-৭০০ টাকা হ্রাস পেয়েছে। হিলির পাইকারি বাজারের বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নতুন সরকারের কঠোর নজরদারি ও পর্যাপ্ত সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে দাম নিম্নমুখী হয়েছে।

হিলি কাস্টমস বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আজম বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মসলাজাতীয় পণ্যের দ্রুত খালাসের জন্য সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করলেন যে, ঈদে দেশজুড়ে মসলার কোনো সংকট হবে না এবং বাজারদর ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঢাকার খুচরা বাজারে যখন মুল্য ঊর্ধ্বগামী, দেশের প্রধান আমদানি পয়েন্টে পর্যাপ্ত মজুত ও দাম কমার খবর সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যকার এই বড় ব্যবধান কমাতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান, তদারকি ও সরকারি দফতোর সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।

পোস্টটি শেয়ার করুন