বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে ডলারের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে

ইরান-সংকট থেকে তৈরি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফলতার বিষয়ে শঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদ বাড়ানোর আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার তীব্রভাবে শক্তিশালী হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ডলারের মান গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছায়। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমদানিনির্ভর দেশের ওপর চাপে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি ঘটছে—বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা বড় ধরনের দুরবস্থা দেখছেন। ডলারের শক্তি প্রধান মুদ্রাগুলোর—ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলার—বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবেই বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের রিটার্ন ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চে পৌঁছিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে ইরান সমঝোতায় আগ্রহী হতে পারে, তিনি হামলার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেননি। এ সব মিলিয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং বাজারে ধারণা গড়ে উঠেছে যে আগামী ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে। কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রাকৌশলবিদ ক্যারল কং মনে করেন, ফেডের কঠোর অবস্থান ডলারের অবস্থান আরও মজবুত করবে।

ডলারের এই শক্তির প্রভাবের বড় উদাহরণ হিসেবে জাপানি ইয়েনের মান প্রতি ডলারে প্রায় ১৬০-এ নেমে এসেছে—এটি ৩০ এপ্রিলের পর থেকে সবচেয়ে দুর্বল। ইয়েনের এমন পতন দেখা দিলে টোকিও পুনরায় মুদ্রাবাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে যাওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা কমছে না। বুধবারের প্রাথমিক লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১০.৮ ডলার—যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় অনেক উচ্চ। তেলের দামের এই চড়া উঠা বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের উচ্ছ্বসিত মূল্য এবং জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি আমদানি ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত করবে। জ্বালানি দামের বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে—ফলত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করা ও টাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন