নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচের বিরুদ্ধে গোপন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে—এ খবর নিজেই মঙ্গলবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন স্মোতরিচ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে গত সোমবার রাতে ওই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং ইস্রায়েলি নীতিনির্ধারণী মহলে ঝড় তুলেছে।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মোতরিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাঁড়িয়েছে যে তিনি পশ্চিম তীরের মধ্যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ ও আবাসন প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পাশাপাশি একই ধরনের অভিযোগে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতমার বেন-গিভিরসহ আইডিএফের আরও তিনজন পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেলেও ওই আইডিএফ কর্মকর্তাদের নাম ও জারির সুনির্দিষ্ট সময় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে স্মোতরিচ আইসিসিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আইসিসি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো কাজ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আদালত ইসরায়েলকে ‘নিরাপত্তার দিক থেকে আত্মহত্যার পথে’ চালিত করতে চাইছে। তিনি আরো বলেন, তিনি ও তার সরকার পক্ষপাতদুষ্ট কোনো সংস্থার নির্দেশ মেনে চলবে না এবং ইউরোপের অনেক দেশ ইসরায়েল ও ইহুদিদের ব্যাপারে দ্বৈত মানদণ্ড পালন করে আসছে বলে মত প্রকাশ করেন।
স্মোতরিচ পশ্চিম তীরের বসতি প্রসারকে ন্যায়সঙ্গত করতে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে, তৌরাত ও বাইবেলে উল্লিখিত তথ্যমতে বর্তমান পশ্চিম তীর, অর্থাৎ জুদেয়া ও সামারিয়া, ইহুদিদের ঐতিহাসিক মাতৃভূমি—এই ভূমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা অপরাধ হতে পারে না। এই আদর্শিক অবস্থান থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেও বসতি সম্প্রসারণ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনড় থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
আইসিসি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিদেশে ভ্রমণে ব্যাপক আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আইসিসি-র সদস্য দেশগুলোর ওপর পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় ঐ দেশের মাটিতে গেলে ওই রাজনীতিবিদদের আটক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, ফলে এটি ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও কণ্ঠস্বরকে নতুনভাবে চাপে ফেলতে পারে।
মোটকথা, পশ্চিম তীরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালতের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল ও বহুমাত্রিক করে তুলতে পারে। পরিস্থিতি কেমন দিকে যেতে হবে, তা নির্ভর করবে আইসিসি–ইসরায়েল বিরোধী বিচারপ্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অননুমোদিত বসতি নীতির ভবিষ্যৎ কায়েমের ওপর।