বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে তারেক রহমান: নির্বাচনী অঙ্গীকারে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র জনগণ রুখে দেবে

চাঁদপুরে সমাবেশে বলছেন বিএনপি প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির সব ষড়যন্ত্র জনগণই রুখে দেবে। শনিবার (১৬ মে) বিকেল পৌনে পাঁচটায় শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে — খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন প্রকল্প কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এসব কাজ শুরু হলেও কিছু মহল বিভ্রান্তিকর কথা ছড়াচ্ছে এবং বিরোধিতা শুরু করেছে। এসব বাধা বিরোধিতার ষড়যন্ত্র জনগণ রুখে দেবে বলে তারেক রহমান আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ সচেতনভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, তার সুবিচারভাবে বাস্তবায়ন করবো—এক এক করে প্রতিটি প্রতিশ্রুতির কাজ সম্পন্ন করবো। কেউ যদি এগুলো বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আমাদের কিছু করার দরকার নেই; দেশের মানুষই তাদের প্রতিপক্ষ দাঁড় করাবেন।’’

প্রধানমন্ত্রী সমাবেশে মানুষের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, সবাই মিলে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড প্রদান ও বেকারদের কর্মসংস্থান সে সব কর্মসূচি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। ‘‘ওই বিভ্রান্তকারীদের ফাঁদে আমরা পা দেব না’’—বলেছেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনও একইদিন চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে করেন তিনি। চাঁদপুর ছাড়াও ভিডিও-конফারেন্সের মাধ্যমে আরও ২০ জেলায় কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠান যুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী — হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম ও তাসলিমার হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানটি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

এর আগে দুপুরে তিনি শাহরাস্তির টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজারের কাছে অবস্থিত ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন কাজের ফলক উন্মোচন করেন। ফলক উন্মোচনের পর খালের পাড়ে নেমে নিজে হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন এবং শেষে সেখানে বৃক্ষরোপণও করেন। উল্লেখ্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে এই খাল খনন করেছিলেন; ৪৮ বছর পর তার ছেলে এই খালকে পুনঃখনন করলেন।

খালের খনন ও সেচবিষয়ক কর্মসূচি পরিদর্শনের পরে বিশাল সমাবেশে এক সাধারণ কৃষক—সাইফুল ইসলাম লিটন—কে ডেকে নিজের পাশে বসান প্রধানমন্ত্রী। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি কৃষকের সুখ-দু:খ ও দাবি শুনেন, যা দেখে শোনার সময় কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কৃষকও সাংবাদিকদের সামনে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে নিজের কথা বলার সুযোগ পাওয়া তার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মিয়া নুরুদ্দিন অপু, রাশেদা বেগম হীরা, আশিক চৌধুরী সহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার সম্ভাবনার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘‘জনগণের দাবি ও প্রয়োজন থাকলে কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে। জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’’. কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজারে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন এবং সভায় উপস্থিত জনতার চাহিদা মেনে হলে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন।

সমাবেশ ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচি ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়; সকাল থেকেই নানা এলাকা থেকে মানুষ সমাবেশস্থলে ছুটে এসে প্রধানমন্ত্রীর একনজর দেখার উদ্দেশ্যে জড়ো হন। তারেক রহমান দেশের পুনর্গঠন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞাও ব্যক্ত করেছেন। তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন—এ দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে জনগণের ভূয়সী গুরুত্ব ও অংশগ্রহণই সংগঠনটির মূল শক্তি। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাই মিলে এই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের নির্মাণে কাজ করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন