শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঢ়তে সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার 목표 নিয়ে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিশ্রুত। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠানো এবং সাধারণ মানুষদের জীবনমান উন্নয়নই বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এই মন্তব্য করেন তিনি, শুক্রবার ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে। এবারের সম্মেলনের শ্লোগান ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটা ঐতিহাসিক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যাপক আকাঙক্ষা দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তিনি বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা এবং ২০২৪ সালের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার স্মৃতিকে গভীর শ্রদ্ধায় শ্রদ্ধা জানান। নিজেকে একজন আন্তরিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পেরেছেন দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্ব।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা যেমন বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি করেছে, তেমনি এগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অনেক বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, দেশের দুর্নীতিও এই পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তবে, তিনি আশাবাদী যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি এবং নতুন সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠবে। সরকার এখন বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারসহ অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন कदम গ্রহণ করছে।

গণতান্ত্রিক উন্নয়নের বিষয়ে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সাংবিধানিক কাঠামো ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার জন্য কাজ করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কৃষি আধুনিকীকরণের জন্য বাজেটে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি উল্লেখ করেন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন