রাজধানীর মিরপুর এলাকায় যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই তদন্তে উঠে এসেছে, মূলত কাফরুল থানার যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার একটি চুক্তিতে চারজন পেশাদার খুনি ভাড়াতেন ঘাঁটির মানুষ হিসেবে ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ইউসুফ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পুলিশ এখন পর্যন্ত চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা, জিয়ারুল মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান, আবির হাওলাদার, আলী হোসেন এবং শাফিন আহমেদসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এই তদন্তের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, কাফরুল থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে একই থানার যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের কারণ হিসেবে স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন ব্যবসা ও একটি টিনশেড বাড়ি দখলের ঘটনা ছিল মূল। এই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতিতে বাবুকে হত্যার জন্য বিশাল অংকের অর্থে পেশাদার খুনির thuê করে আনা হয়। ডিবির মহাপরিদর্শক জানান, “এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ২৫ লাখ টাকা চুক্তি হয়। মূল কারন ছিল শহরটিতে ময়লা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল ও ফুটপাত দখলের মত বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন এখন নিচ্ছি, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি না।” গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, হাফিজুর রহমান হাফিজ নিজে তাদের এই কাজের জন্য ঢাকায় এনে নিয়েছিলেন।
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, ২৯ জুন প্রথম আক্রমণের চেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু পিস্তলে গুলি লোডের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে ২২ জুলাই পেশাদার খুনিরা ঢাকায় এসে মিরপুরের এক হোটেলে অবস্থান নেন এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন। ঘটনার রাতে হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের সামনে সন্দেহজনকদের দেখা গেলে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা আক্রমণকারী হয়ে ওঠে এবং নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। তল্লাশি করতে গেলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফের বুকে গুলি চালায়, যার ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পাশাপাশি পাশে থাকা সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার এবং মনির হোসেনও গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশ জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে, তবে এই বিষয়গুলো গোপন রাখা হচ্ছে না। হামলা-ভাংচুরের সাথে এর পেছনে রাজনৈতিক দিকও থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। মূল হোতাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো অব্যাহত রয়েছে, এবং ধৃতদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান under way। অপরাধীরা নিজস্ব আধিপত্য বিস্তার করার জন্য শীর্ষ সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করলেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই মামলাটি এখন ডিবি’র তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন।