দেশের বীর সন্তান, শহীদ পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের জরুরি উদ্যোগের অংশ হিসেবে মাসিক সম্মানি ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের জন্য মাসিক সম্মানি, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা এবং মহান বিজয় দিবস ও বাংলা নববর্ষের বিশেষ অনুদান পুনঃনির্ধারিত হয়েছে। এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুসংহত করা, যাতে তারা আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন।
প্রজ্ঞাপনের বিবরণে জানানো হয়েছে, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ‘বীর উত্তম’ খেতাবধারীরা এখন থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া, তাঁরা আরও ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা এবং ২ হাজার টাকা নববর্ষ ভাতা পাবেন। অন্যদিকে, ‘বীর বিক্রম’ ও ‘বীর প্রতীক’ খেতাবধারীরা প্রত্যেকেই মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা পাবেন। এছাড়া, তারা যথাক্রমে ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা এবং ২ হাজার টাকা নববর্ষ ভাতা পেয়ে থাকবেন। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য এই সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। তাঁদের মাসিক সম্মানি এখন থেকে ২৩ হাজার টাকায় উন্নীত করেছে, যার সঙ্গে যোগ হয়েছে ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা, ২৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা ও ২ হাজার টাকা নববর্ষ ভাতা।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রণীত এই নতুন নিয়মে তাঁদের শারীরিক অক্ষমতার স্তর অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে বিভাজন করে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ অক্ষমতা ‘ক’ শ্রেণির (৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষম) মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা পাবেন। এরপর, ‘খ’ শ্রেণির (৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ), ২৮ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণির (২০ থেকে ৬০ শতাংশ), ২৩ হাজার টাকা এবং ‘ঘ’ শ্রেণির (এক থেকে ১৯ শতাংশ), ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা অনুমোদিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আমাদের দেশের বীর সন্তানদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার অনড়প্রতিজ্ঞ। বর্তমান এই বৃদ্ধি সরকারের কল্যাণমুখী দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।