বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে উদ্যোক্তা ভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় মৌসুমি ফলের সরবরাহ, ডিজিটাল সেবা সংযুক্তি এবং ই-কমার্সের জন্য লজিস্টিক সেবা উন্নত করা হবে। উল্লেখ্য, এই কার্যক্রমের মধ্যে ১৪টি নতুন ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা সদর পর্যন্ত স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, বুকিং, সর্টিং, পরিবহন ও বিতরণে আরও স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনা সম্ভব হবে। ডাক বিভাগের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজ মডেল চালু হলে ডাক বিভাগের সার্বিক সেবার মানোন্নয়ন ঘটবে এবং পণ্ডের সময় ও সীমাবদ্ধতা কমবে। এতে নাগরিকরা সময়ের বাধা ছাড়াই দ্রুত ও আধুনিক ডাকসেবা পাবেন। এই মডেলে ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে পণ্য ও ডেলিভারি সেবা পরিচালিত হবে, যেখানে সেবার মানক্ষুণ্ণ হলে চুক্তি বাতিলের ব্যবস্থা থাকবে। একই সময়ে, মৌসুমি ফলের সংগ্রহ ও সরবরাহের উন্নত প্রক্রিয়া চালু হয়েছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ ফল উৎস থেকে সংগ্রহ করে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য প্রযুক্তিনির্ভর নতুন দুটি সেবা তৈরি সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার ডকুমেন্ট ও নগদ অর্থের লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পোস্ট অফিসে আধুনিক প্রযুক্তি সামগ্রী যেমন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, থার্মাল প্রিন্টার ও কম্পিউটার সরবরাহের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার ব্যবহারে দ্রুততা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিকল্পনামাফিক, সম্পূর্ণ ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হবে, যেখানে আধুনিক স্থাপনা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডাক বিভাগের কর্মকর্তা ও পরিচালকরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ডাক বিভাগের সেবার পরিমাণ ও মান উন্নত হবে, পাশাপাশি ডিজিটাল ও ই-কমার্স ভিত্তিক অর্থনীতিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা বাড়বে।