সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় সুনামি ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি কর্মকর্তাদের জন্য তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মূলত তারা যেন তাদের যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কৃত হন, সেটিই প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী অধিক্ষেত্রে অবস্থিত নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী, যা দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি, শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনের সাথে আরও সহযোগিতা করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই বাহিনীর ত্যাগ ও সাহসিকতা দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। কথা বলার শুরুতেই তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের স্মরণ করেন।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সশস্ত্র বাহিনীর বীরেরা, বিশেষ করে নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদরা।

এর পর তিনি বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি ঢাকায় অবস্থিত আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই) এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরে, তিনি বিমান বাহিনী আধুনিক এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শত্রুবিমান প্রতিরোধ ও ড্রোনের লাইভ স্ট্রিম দেখেন, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অংশ।

উল্টো পথে তিনি বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্সের কার্যক্রমও সরেজমিন দেখেন। এই সময় তিনি বিভিন্ন উন্নত ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন ও অন্যান্য আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল এর প্রদর্শনী দেখেন এবং কোয়াডকপ্টার উড্ডয়ন অবলোকন করেন।

প্রধানমন্ত্রী এই আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করছে, যা দেশি প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিদিনের এই সফরে তিনি উপসচিব, সেনাপ্রধান, আর্মড ফোর্সেসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী চুক্তি ও নিয়মিত মহড়া দেখতে আসা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

এই সফর ও পরিদর্শন প্রক্রিয়া দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

পোস্টটি শেয়ার করুন